ভূমিপুত্র -২ : ইতিহাসে হাঁড়িকুড়ি, খন্ডহর -ভাগ ৩
মানস পাল
ভূমিপুত্র-২ ইতিহাস রচনার উপাদান হিসাবে অনেক ক্ষেত্রেই রাজার মুকুটের চেয়ে একটি ভাঙা হাঁড়ির টুকরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে, একটি ভাঙা খন্ডহর কোন আলিশান রাজবাড়ীর চেয়ে বেশি বাঙ্ময় হয়।
ত্রিপুরা প্রাচীন ইতিহাস বুঝতে গেলে এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার। আমার এই লেখাগুলির প্রথম থেকেই প্রতিপাদ্য ছিল ,
১. বর্তমান ত্রিপুরার ভৌগোলিক চিত্র দিয়ে ত্রিপুরার প্রাচীন ইতিহাস বোঝা যায় না , ২ প্রাচীন কালে বর্তমান ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চলে ত্রিপুরী জনগনের বাস থাকলেও , এই বর্তমান ত্রিপুরার সমতলভূমি সে সময় বর্তমান বাঙালিদের পূর্বপুরুষদের বাস ছিল। ৩। পঞ্চদশ শতকের আগে বর্তমান ত্রিপুরায় যে সমতল অঞ্চল আমরা দেখি সেখানে মানিক্য রাজবংশের উপস্থিতির যেমন কোন প্রমান পাওয়া যায় না তেমনি ত্রিপুরী জনগণের এই সমতলে বাস ছিল এমন কোন প্রমাণও নেই। কিন্তু সমতলে বাংলায় পূর্বজদের রাজত্ব এবং বাসের প্রচুর বৈজ্ঞানিক উপাদান রয়েছে।
এই আলোচনায় আমি প্রথমেই এই বৈজ্ঞানিক উপাদান গুলির দিকে নজর দিতে চাই তারপর নাহয় সেই সমতট, হরিকেল প্যাট্টিকেরা – দেব, খড়গ, রাত , চন্দ্র , দ্বিতীয় দেব ডিন্যাস্টি নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
একটি প্রশ্ন আসতেই পারে , যদি এই সমতলে বাঙালিদের পূর্বজরা বাস করতেন, রাজত্ব করতেন তবে কবে থেকে এর সূচনা হয়েছিল , আর কবেই বা শেষ হয়ে ধীরে ধীরে ত্রিপুরি রাজাদের রাজত্ব শুরু হল। এটি একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন।
উত্তর হল বৈজ্ঞানিক উপাদান বিশ্লেষণে করতে গিয়ে দেখা যায় সমুদ্রগুপ্তের চতুর্থ শতকের এলাহাবাদ প্রশস্তিতে ‘করদ ও প্রান্তিক রাজ্য হিসাবে যেমন সমতটের উল্লেখ আছে ( হিউয়েন ৎসাং এর সু ইউ কি তেও ও;উল্লেখ রয়েছে) , তেমনি ত্রিপুরা সংলগ্ন কুমিল্লায় গুনাইঘর-এ বৈন্যগুপ্তের গুপ্তাব্দ ১৮৮ বা ৫০৭-৫০৮ খ্রিস্টাব্দের তাম্রশাসন – ‘গুনাইঘর তাম্রশাসন’ এতদঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন প্রমান। এতে কি আছে ? , খুব বিশদে আলোচনায় না গিয়েও বলা যায় -এটি একটি তাম্রশাসন যা শুধু একজন রাজার নাম -বৈন্যগুপ্তের নাম -জানায় না। এই তাম্রশাসন জমি সংক্রান্ত দান ধারণার কথা জানায়। আর, দান করতে গেলে জমি থাকতে হয়। তার সীমানা নির্ধারণ করতে হয়। রাজস্বের ব্যবস্থা থাকতে হয়। কৃষক থাকতে হয়। প্রশাসন থাকতে হয়। অর্থাৎ ৫০৭-৫০৮ খ্রিস্টাব্দেই ষষ্ঠ শতকের শুরুতেই আজকের ত্রিপুরার পশ্চিমে ছিল সুসংগঠিত কৃষিনির্ভর জনপদ। আবার এর সর্বশেষ উপাদান ( তাম্রশাসন ) কখন কোন সময়ের ? সেটি হল –১২৩৪ খ্রিস্টাব্দ—মেহের তাম্রশাসন।. এই দামোদরদেবের মেহার তাম্রশাসন–১২৩৪ খ্রিস্টাব্দের অর্থ্যাৎ ত্রয়োদশ শতকের। তাম্রশাসনটিতে মেহের গ্রামের অবস্থান প্রশাসনিক ভাবে দেওয়া হয়েছে Paralāyi, viṣaya , Samataṭa-maṇḍala, Pauṇḍravardhana-bhukti-র মধ্যে। Banglapedia-ও Mehar-কে Comilla-র প্রায় ১৪.৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে স্থাপন করে এবং স্পষ্ট ভাবে বলে যে অঞ্চলটি Samataṭa-maṇḍala হিসেবে উল্লেখিত। একবার সময়ের ব্যবধানটা ভাবুন। চতুর্থ শতকে সমুদ্রগুপ্তের inscription-এ Samataṭa। আর ত্রয়োদশ শতকের copper plate-এ এখনও Samataṭa-maṇḍala। প্রায় নয়শো বছরের ব্যবধান। অবশ্যই এর অর্থ এই নয় যে একই রাজবংশ নয়শো বছর ধরে সমতট শাসন করেছে।
রাজা বদলেছেন। রাজবংশ বদলেছে। রাজধানী বদলেছে। রাজনৈতিক boundary বদলেছে। কিন্তু Samataṭa নামের historical-geographical identity-টি extraordinarily দীর্ঘস্থায়ী ছিল। এই তথ্যটি ত্রিপুরার ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ত্রয়োদশ শতকেও কুমিল্লার এই অঞ্চলের সমকালীন epigraphic record যদি তাকে Samataṭa-maṇḍala-র মধ্যে রাখে, তা হলে বহু শতাব্দী পিছিয়ে Rajmala-র genealogy বসিয়ে কুমিল্লাকে অনায়াসে প্রাচীন Tripura kingdom-এর অংশ বলে দেওয়া যায় না। তার জন্য contemporary evidence লাগবে।
এবার আসা যাক এমন সব উপাদানে যেগুলি আমাদের সামনে রয়েছে , ইতিহাসকে জোর গলায় প্রমান করছে। এগুলির বিশ্লষণে আমি টেকনিক্যাল বিষয় ছেড়ে যাচ্ছি , কেননা এগুলি আপনারা যেকোনো সময় ইন্টারনেট সার্চ করে পরে নিতে পারবেন। আমি শুধু কতগুলি পয়েন্ট তুলে ধরছি যেগুলি প্রমান করে যে এখানকার বাঙালিদের পূর্বজরাই এই ত্রিপুরার সমতলে রাজত্ব করতেন বাস করতেন।
কোথাও যদি প্রাচীন স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় , মুদ্রা পাওয়া যায়, মূর্তি পাওয়া যায় , টেরাকোটা পাওয়া যায় , মাটির হাড়ি পাওয়া যায় তাহলে কি প্রমান হয় ? প্রমান হয় এখানে জনপদ ছিল। এতে প্রমান হয় এখানে everyday habitation-ছিল । রাজা তাঁর নাম তাম্রপাতে লিখিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু হাঁড়িটা বলে—এখানে মানুষ থাকত। রান্না হত। খাওয়া হত। জিনিস তৈরি হত। বাজার ছিল। স্থাপত্য বলে এখানে কারিগর ছিল। স্থায়ী জনপদ ছিল।
এই জায়গাতেই বক্সনগর আমাদের গোটা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ বক্সনগর বাংলাদেশের কুমিল্লায় নয়। বক্সনগর আজকের ত্রিপুরার ভিতরে।
Archaeological Survey of India এখানে খনন করে বিশাল ইটের তৈরি বৌদ্ধ স্তূপ, চৈত্যগৃহ, বিহার এবং অন্যান্য স্থাপত্য বের করেছে। পাওয়া গেছে তিনটি ব্রোঞ্জ বুদ্ধমূর্তি, moulded bricks, miniature votive stupas, sealings, silver coins-সহ নানা প্রত্নবস্তু। ASI-র একটি বিস্তারিত site record মূল establishment-টির সূচনা আনুমানিক ষষ্ঠ শতক বা তার পরে ধরে এবং দ্বাদশ শতক পর্যন্ত তার কার্যকলাপের কথা বলে। মূল কথা Boxanagar একটি early-medieval Buddhist complex, যার জীবনকাল অন্তত দ্বাদশ শতক পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
কিন্তু একটি বিহার তো আর আকাশ থেকে পড়ে না। ভিক্ষুদের খেতে হয়। খাদ্য উৎপাদন করতে কৃষক লাগে। ইট পোড়াতে শ্রমিক লাগে। মৃৎপাত্র বানাতে কুমোর লাগে। মঠ চালাতে দাতা লাগে। পথ লাগে। বিনিময় ব্যবস্থা লাগে। অর্থাৎ বক্সনগর শুধু প্রমাণ করে না যে “ত্রিপুরায় বৌদ্ধধর্ম এসেছিল”। এটি প্রমাণ করে যে একটি organised religious establishment এবং তাকে ধারণ করার মতো অর্থনৈতিক-মানবিক পরিবেশ আজকের ত্রিপুরার ভিতরে ছিল। এবং অতি অবশ্যই রাজানুগ্রহ প্রয়োজন পড়ে । তা, সেই ষষ্ঠ শতকে কোন ত্রিপুরী রাজার তো অস্তিত্ব কোন বৈজ্ঞানিক উপাদানে নেই , বা এমনকি কোন রাজমালাতেও উল্লেখ নেই , বা ত্রিপুরী কোন রাজা বৌদ্ধ ও ছিলেন না। সমতলে কোন ত্রিপুরী বসবাসে চিহ্নও ওই সময়ে পাওয়া যায় নি। আবার এদিকে ASI নিজেই Boxanagar-এর সমসাময়িক বা তুলনীয় regional Buddhist establishments-এর মধ্যে South Tripura-র Shyam Sundar Tilla, Paharpur এবং Mainamati-র কথা উল্লেখ করছে।
এবার বক্সনগর নিয়ে একটু বিশদ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি :
প্রথম যে প্রশ্ন আসবে বক্সানগর আসলে কী? বর্তমান সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া মহকুমার বক্সানগর, বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে কাছে অবস্থিত একটি বৌদ্ধ স্থাপনা যেটি ষষ্ঠ শতক থেকেই মানে প্রায় দেড়হাজার বছর ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছে একে উপেক্ষা করে প্রাচীন ত্রিপুরা ইতিহাস লেখা যায় কি ?
ASI-র খননে এখানে যে বিশাল ইট-নির্মিত বৌদ্ধ স্তূপ (stupa), চৈত্যগৃহ (chaityagriha), বিহার বা monastery এবং আরও কয়েকটি burnt-brick structure আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলি ASI Guwahati Circle-এর সরকারি বিবরণে প্রাচীন ত্রিপুরার এতদিন অজানা ধর্মীয় ও স্থাপত্য-ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বলা হয়েছে। এখানে প্রথম বড় excavation চলে 2001–02 থেকে 2003–04 পর্যন্ত। পরে 2009–10 সালে আবার excavation হয় এবং আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ religious structure উন্মোচিত হয়। ASI-র excavation তালিকাতেও 2001–04 পর্যায়ের কাজটি নথিভুক্ত আছে।
অর্থাৎ Pilak-এর মতো এটিও কোনও বিচ্ছিন্ন মূর্তি পাওয়ার জায়গা নয়—এটি একটি substantial Buddhist establishment। ( উল্লেখ করা যেতে পারে হিউয়েন ৎসাং ( ৬২-৬৪৫ খ্রি ) তাঁর সু ইউ কি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে সমতট সহ এতদঞ্চলে -সমতটে কিঞ্চিদধিক ত্রিংশতিটি সংঘারাম ও শতাধিক দেবমন্দির ছিল ( জহর আচার্য বিলুপ্ত রাজ্য সমত ও হরিকেল )
বক্সানগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কত পুরনো?

ASI Guwahati Circle-এর বর্তমান সরকারি detailed note-এ বলা হয়েছে: “the Buddhist establishment at Boxanagar might have sprang up during c.6th century CE and continued till 12th century CE.” আবার Purātattva, No. 33-এ প্রকাশিত R. D. Singh-এর “Excavation at Boxanagar, District West Tripura, Tripura”, p. 164-এ বলা হয়েছে: “The chronology of the site has been fixed to 7th–8th century A.D. on the basis of the textual findings on the clay seals.” অর্থাৎ clay seal/sealing-এর লেখ বা paleographical/textual evidence-এর ভিত্তিতে সপ্তম–অষ্টম শতক নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে date শুধু স্থাপত্যশৈলী দেখে অনুমান করা হচ্ছে না; seal-এর লেখও বৈজ্ঞানিক dating-এর ভিত্তি হয়েছে। অর্থাৎ বলাযায় “বক্সানগরে বৌদ্ধ উপস্থিতির সূচনা অন্তত সপ্তম–অষ্টম শতকে স্থাপন করার প্রত্যক্ষ archaeological-epigraphic ভিত্তি রয়েছে, ASI-র বর্তমান সরকারি বিবরণ এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা আরও আগে, আনুমানিক ষষ্ঠ শতকে নিয়ে যায় এবং এর ধারাবাহিকতা দ্বাদশ শতক পর্যন্ত নির্দেশ করে। সে অর্থে , বর্তমানে পাওয়া archaeological evidence-এর ভিত্তিতে Boxanagar-এর Buddhist establishment Pilak-এর excavated major Buddhist complex-এর তুলনায় প্রাচীনতর বলে মনে হয়।

Tripura University-র Subrata Dey-ও তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণায় Boxanagar-কে Tripura-র প্রাচীনতম Buddhist archaeological site হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিবন্ধটি: Subrata Dey, “Boxanagar: An Ancient Buddhist Archaeological Site of Tripura,” Heritage: Journal of Multidisciplinary Studies in Archaeology, 11.1 (2023–24), pp. 729–737.
কী পাওয়া গেছে এখানে ? — বিশাল স্তূপ প্রথম excavation-এ যে massive brick-built stupa বেরিয়ে আসে সেটি প্রায় 15.40 × 15.40 metre। এর basement আটটি ক্রমহ্রাসমান moulding দিয়ে তৈরি; তার উপরে burnt brick ও mud mortar-এ নির্মিত tapering medhi। Purātattva 33-এর excavation report-এ structureটির extant height আট মিটারেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোনও ছোটখাটো গ্রামীণ shrine নয়। এর scale-ই বলে দিচ্ছে যে এখানে একটি সাংগঠনিক, সম্পদসমৃদ্ধ Buddhist religious establishment ছিল।
চৈত্যগৃহ—অর্থাৎ উপাসনার পৃথক স্থাপত্য। .স্তূপের পূর্বদিকে excavators একটি Chaityagriha আবিষ্কার করেন। এটি rectangular এবং east–west aligned। superstructure ধ্বংস হয়ে গেলেও side walls প্রায় 1.60 metre পর্যন্ত টিকে ছিল। অর্থাৎ এখানে শুধু commemorative stupa ছিল না, বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাসনার জন্য আলাদা architectural space-ও ছিল। এটা বক্সানগরকে একটি পূর্ণাঙ্গ religious complex হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ।
Monastery — বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকার ব্যবস্থাও ছিল…এর পর আসে সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার—brick-built monastery। ASI জানাচ্ছে, monastery-টির মাঝখানে একটি দীর্ঘ corridor এবং তার দুই দিকে পাঁচটি করে cell ছিল। এর archaeological implication যথেষ্ট বড়।
|Also Read : https://asiguwahaticircle.gov.in/treadmore1.html |
Stupa , Chaityagriha , Monastery cells—এই combination দেখায় যে এটি কেবল pilgrimage spot নয়, এখানে একটি resident Buddhist monastic community থাকার উপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। অর্থাৎ early-medieval বর্তমান ত্রিপুরায় আমরা একটি institutional Buddhist establishment পাচ্ছি।
Clay sealings — সম্ভবত সবচেয়ে মূল্যবান প্রমাণ বক্সানগরের dating-এর ক্ষেত্রে clay seals/sealings বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। R. D. Singh-এর excavation report অনুযায়ী, clay seal-এর textual findings থেকেই site-এর chronology সপ্তম–অষ্টম শতকে স্থাপন করা হয়। আর ASI-র সরকারি inventory-তে Boxanagar থেকে পাওয়া উল্লেখযোগ্য antiquities-এর মধ্যে রয়েছে: তিনটি bronze Buddha image, moulded bricks, miniature votive stupas, sealings এবং silver coins। এখানেই আমাদের পরবর্তী গবেষণার একটা বড় দরজা খুলছে। Sealings-এর inscription ঠিক কী? কোন script—Siddhamātṛkā/Kutila transitional form? কী লেখা রয়েছে? কোনও ruler, vihara বা donor-এর নাম আছে কি? এটি আমরা আলাদা করে primary excavation record ধরে খুঁজব। কারণ Boxanagar–Samatata political connection প্রমাণ করার ক্ষেত্রে architectural similarity-র চেয়ে seal inscription অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
২০০৯–১০ সালের excavation — আরও একটি রহস্যময় Buddhist structure ….2009–10 সালে ASI আবার excavation করে।
এবার ২০টি trench খনন করে একটি সম্পূর্ণ burnt-brick structure পাওয়া যায়। এর outer walls tri-ratha order-এ নির্মিত। ভিতরে একটি square sacred chamber এবং সেখান থেকে তিনটি spoke-এর মতো structure বেরিয়ে এসেছে। সামনে ছিল একটি rectangular hall—প্রায় 7.40 × 3.90 metre—যেখানে brick-rammed floor ছিল। Excavators মনে করেছেন এটি devotees-এর congregation-এর কাজে ব্যবহৃত হত। চারদিকে ছিল প্রশস্ত pradakṣiṇāpatha। ASI বিশেষভাবে বলেছে যে এর three-spoked plan ভারতের অন্যত্র Kushana বা Satavahana স্তরে পাওয়া conventional spoked stupa-র সম্পূর্ণ circular form-এর সঙ্গে মেলে না। অর্থাৎ Boxanagar architecture নিছক কোনও পরিচিত model-এর mechanical copy নয়—এর regional architectural individuality-ও ছিল।
বক্সনগর বর্তমান ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে, আর সীমান্তের ওপারেই বৃহত্তর Comilla–Lalmai–Mainamati archaeological zone। এই আধুনিক আন্তর্জাতিক সীমান্ত অবশ্য সপ্তম–দশম শতকের মানুষের কাছে ছিল না। সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনকি উল্লেখ করা হয়েছে যে Lalmai–Mainamati অঞ্চলের northernmost archaeological site Ranir Banglo Boxanagar থেকে মাত্র প্রায় 32 km দূরে। পশ্চিম ত্রিপুরার Boxanagar–Sonamura–Bishalgarh অঞ্চল early-medieval period-এ সক্রিয় ছিল এবং Lalmai–Mainamati archaeological landscape-এর একেবারে সংলগ্ন। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ geographical context।
|Also Read : https://www.academia.edu/127977743/Metal_images_from_Tripura|
এসব কি প্রমান করে ? এসব প্রমান করে দক্ষিণ ত্রিপুরার এখানে জনপদ ছিল , গ্রামবাসী ছিল , কয়েক শত ভিক্ষু ছিলেন , ছাত্র ছিলেন তাঁরা যে ভিক্ষান্ন গ্রহণ করতেন তা এখানকার জনপদের লোকেরাই দিত। জনপদ থাকলে বাজার ছিল, কৃষক ছিল, কৃষক থাকলে কৃষি জমি ছিল , বাজার ছিল , বিনোদনের স্থান ছিল , ইত্যাদি ইত্যাদি। তো এই জনপদের বাসিন্দারা তো আর ত্রিপুরী ছিলেন না , ছিলেন এখনকার বাঙালিদের পূর্বজরা।
এবার আসা যাক নবম বা দশম শতকের পিলাকে।
পিলাকের ক্ষেত্রেও একই বক্তব্য প্রযোজ্য। পিলাক—দক্ষিণ ত্রিপুরার পিলাক এক অর্থে আরও আশ্চর্য। এখানে একই সঙ্গে বৌদ্ধ এবং ব্রাহ্মণ্য ধর্মীয় সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া যায়। বুদ্ধ, অবলোকিতেশ্বর, তারা, মারীচি—একদিকে। অন্যদিকে বিষ্ণু, নৃসিংহ, সূর্য, শিব, দুর্গা, গণেশ। এ যেন বৃহত্তর পূর্বভারতীয় religious plurality-র একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ছবি। পিলাকের terracotta tradition-এর সঙ্গে Mainamati এবং Paharpur-এর তুলনা বহুদিন ধরেই গবেষণায় এসেছে। এখানে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ।
টেরাকোটা architectural technology শুধুই একটা “idea” নয়। এর জন্য মাটি বাছতে হয়। ছাঁচ বানাতে হয়। ফায়ারিং জানতে হয়। iconography জানতে হয়। স্থাপত্যের কোথায় কোন plaque বসবে তা জানতে হয়। অর্থাৎ একই ধরনের sophisticated প্রযুক্তি বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলে কোনও না কোনও ভাবে technical knowledge transfer হয়েছে। প্রমাণ হয়—যোগাযোগ ছিল, প্রযুক্তির চলাচল ছিল, এবং কারিগর বা কারিগরি জ্ঞানের চলাচলের সম্ভাবনা প্রবল।– এখানেও তাই বাঙালিদের পূর্বজদের কর্মকান্ড প্রমাণিত।

তা , পিলাক: প্রত্নতত্ত্ব আসলে কী বলছে ? (Pilak complex came up in early Deva dynasty — approximately 8th to early 9th century. They ruled Samatata from Devaparvata/Mainamati, and archaeology at Mainamati shows that the 8th–9th centuries were particularly associated with Deva rule and major Buddhist architectural activity. Then Chandra dynasty — becomes the major power in Samatata somewhat later, especially from the 9th/10th century onward. So the Chandras could very well be associated with a later phase of Pilak, but are less convincing for its very beginning).
প্রথমেই একটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। Pilak কোনও একটি monastery বা একক archaeological mound-এর নাম নয়। দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ি–পিলাক অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা শ্যামসুন্দর টিলা, ঠাকুরানি টিলা, দেববাড়ি, বলির পাথর, বাসুদেববাড়ি প্রভৃতি স্থান মিলিয়ে একটি বৃহত্তর archaeological-cultural zone। সরকারি বিবরণে এই অঞ্চলের সভ্যতার সময়কাল সাধারণভাবে খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বলা হয়েছে। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ হল ASI-র মূল excavation record।

পিলাকের প্রত্নতাত্ত্বিক উপস্থিতির প্রথম প্রত্যক্ষ সরকারি নথি :
Indian Archaeology 1965–66: A Review-এ, p. 83, “Buddhist Remains at South Jolaibari and Pilak, Tripura” শিরোনামে দক্ষিণ জোলাইবাড়িতে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত standing Buddha এবং আরও দুটি সম্ভবত Avalokiteśvara মূর্তির কথা নথিবদ্ধ করা হয়। মূর্তিগুলি যে mound-এর উপর পাওয়া গিয়েছিল, সেটিকে প্রতিবেদনে সম্ভবত ধ্বংসপ্রাপ্ত stupa বলে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ অন্তত ১৯৬৫–৬৬ সালের ASI documentation থেকেই এই অঞ্চলটির Buddhist archaeological character সরকারি ভাবে স্পষ্ট হয়ে যায়। (Source: Indian Archaeology 1965–66: A Review, p. 83.) পুরনো Indian Archaeology—A Review সংখ্যাগুলি NMMA-র সরকারি archive-এ রয়েছে। Indian Archaeology Review archive
শ্যামসুন্দর টিলা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। . এর পরের বড় পদক্ষেপ 1984–85। ASI-র J. S. Nigam ও তাঁর দল Shyamsundar Tila-তে excavation করেন। Indian Archaeology 1984–85: A Review, pp. 78–79-এ তার বিস্তারিত report আছে। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার, report নিজেই জানাচ্ছে যে স্থানটি এর আগে 1965–66, p.83 এবং 1969–70, p.61-এ নথিভুক্ত হয়েছিল।

খননে বেরিয়ে আসে brick-built stupa complex। সঙ্গে পাওয়া যায় অসংখ্য moulded terracotta plaque—বুদ্ধ, flying gandharva, warrior, dancer, chakra, lotus, lion, horse, bull, boar ইত্যাদির representation।
এখানেই আমাদের সামতট আলোচনার জন্য অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ একটি statement রয়েছে। ASI সরাসরি লিখছে যে Shyamsundar Tila-র terracotta plaques-এর সঙ্গে Paharpur এবং Mainamati-র moulded terracotta plaques-এর ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য রয়েছে। তার পরেই ASI complex-টির date নির্ধারণ করছে—“The Buddhist complex here may be assigned a date between the ninth and tenth century AD.” অর্থাৎ খ্রিস্টীয় নবম–দশম শতক। (Source: Archaeological Survey of India, Indian Archaeology 1984–85: A Review, pp. 78–79, Excavation No. 88, “Shyamsundar Tila, South Jolaibari, District South Tripura.”) এটি একটি primary archaeological reference।
1998–99-এর excavation প্রমাণটিকে আরও শক্ত করে. 1998–99 সালে ASI আবার এই অঞ্চলে কাজ করে। Indian Archaeology 1998–99: A Review, p. 159 [PDF scan p.164]-এ পোড়া ইটের নির্মাণের বর্ণনা রয়েছে। Structure-টিতে mukha-maṇḍapa, ardha-maṇḍapa, garbhagṛha এবং pradakṣiṇāpatha চিহ্নিত করা হয়। ASI-র dating: “On stylistic ground the temple may be datable to ninth-tenth century AD.” অর্থাৎ আবার সেই নবম–দশম শতক।
এর পরের অংশটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। Excavation-এ ২৯টি terracotta plaque in situ এবং debris থেকে আরও ৩৫টি plaque পাওয়া যায়। তার মধ্যে warrior, animal, bird, mythological figure-এর পাশাপাশি votive stupa এবং seated Buddha ছিল। আর ASI এবার comparison-টি আরও বিস্তৃত করে লিখছে—“…comparable to those found at Paharpur, Mainamati, and Vikramasila.” অর্থাৎ পিলাকের শিল্পকে ASI নিজেই পাহাড়পুর–ময়নামতি–বিক্রমশীলা artistic tradition-এর সঙ্গে তুলনা করছে। (Source: Indian Archaeology 1998–99: A Review, pp. 159–161; সংশ্লিষ্ট PDF scan pp. 164–166. ASI excavation report 1998–99)

একই সময়ে শৈব মন্দিরও — খুব গুরুত্বপূর্ণ, এখানেই পিলাকের আর একটি বৈশিষ্ট্য সামনে আসে। Thakurani Tilla excavation-এ একটি square garbhagṛha, quartz Śiva-liṅga, sandstone yoni-pīṭha, এবং crystal-এর miniature votive liṅga পাওয়া যায়। ASI এটিকেও stylistic grounds-এ circa ninth–tenth century AD বলেছে। এর অর্থটা গুরুত্বপূর্ণ। একই বৃহত্তর archaeological landscape-এ আমরা পাচ্ছি—
বৌদ্ধ স্তূপ/মন্দির , Buddha/Avalokiteśvara , Buddhist terracotta imagery, Śiva-liṅga ও Śaiva shrine, অন্যান্য Brahmanical imagery।
সুতরাং পিলাককে শুধুমাত্র “Buddhist settlement” বললেও archaeological picture অসম্পূর্ণ হয়। বরং এটি ছিল Buddhist ও Brahmanical religious traditions-এর সহাবস্থানের একটি early-medieval cultural zone /..ASI Guwahati Circle জানাচ্ছে যে 1998–99 থেকে 2000–01 পর্যন্ত excavation-এর পরে Shyamsundar Tila-র brick-built Buddhist complex সম্পূর্ণভাবে exposed হয়। Central shrine-টি ছিল cruciform, pancharatha order-এ নির্মিত; চারদিকে subsidiary shrines এবং pradakṣiṇāpatha ছিল।
Terracotta plaque-গুলিতে Buddha, Buddhist deity-এর পাশাপাশি Gaṇeśa, Kārttikeya, dancer, musician, gandharva, kinnara এবং নানা পশুপাখি ও floral motif পাওয়া গেছে। একটি life-size Avalokiteśvara, পাশে Tārā ও Hayagrīva-ও উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। ASI এই remains-কে আবারও circa ninth–tenth century AD-এ স্থাপন করছে। ASI Guwahati Circle — Shyamsundar Tila excavation
সাম্প্রতিক scholarly synthesis-এ Tripura-র এই Buddhist centres-কে Samatata-য় Buddhist religious centres-এর বিস্তারের বৃহত্তর archaeological context-এর মধ্যে রাখা হয়েছে। Birendra Nath Prasad-এর Archaeology of Religion in South Asia এই প্রসঙ্গে Debala Mitra-র Pilak গবেষণা এবং Boxanagar-এর evidence-ও উল্লেখ করেছে। এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ Debala Mitra, পরবর্তীকালে ASI-র Director General। তিনি 1976 সালে Pilak–Jolaibari-তে systematic survey করেন এবং তাঁর seminal study প্রকাশ করেন: Debala Mitra, “Antiquities of Pilak and Jolaibari, Tripura,” Journal of the Asiatic Society, Vol. XVIII, Nos. 1–4 (1976), pp. 56–77.
এ লেখাটি আর বিশাল করার প্রয়োজন নেই। পরবর্তীতে মুদ্রা ও সমতটের রাজ বংশাবলী নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। আমি এখানে পিলাক বা বক্সনগরে পাওয়া শিল্পকলা ও এর ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করিনি ( যেমন টেরাকোটায় প্রাপ্ত বজ্র চিন্হ– বজ্রযান বৌদ্ধ ধর্মের বিষয় ইত্যাদি ) এই লেখাতে শ্রদ্ধেয় পান্নালাল রায় ও দীপক ভট্টাচার্যের গবেষণামূলক লেখা বইয়ের সাহায্য নিয়েছি।
PS : অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে বলেছেন , আমার লেখায় বাংলা ইংরেজি মিশ্রণ দৃষ্টিকটু লাগে। এটা সত্যি। কিন্তু আমি যেহেতু বাংলা টাইপ জানিনা , amar – লিখে –আমার—বলতে হয়, তাই এই দুর্দশা। এক টানে লিখি বলে যা সহজে আসে দিয়ে যাই. ..এ ব্যাপারে আমি অপারগই বলতে পারেন






